কলকাতা: মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে (Matua Thakurbari Controversy) কোন্দল এবার প্রকাশ্যে চলে এল। এতদিন মতুয়া বাড়িতে কোন্দল চলছিল বিজেপি- তৃণমূলের মধ্যে অর্থাৎ শান্তনু ঠাকুর আর মমতাবালা ঠাকুরের দ্বন্দ্ব। এবার মতুয়া মহাসঙ্ঘের ঠাকুরবাড়িতে বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের আর এক প্রতিদ্বন্দ্বীর আবির্ভাব হল, গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর (Subrata Thakur)। শান্তনুর বিরুদ্ধে সরব হয়ে কি তৃণমূলের পথে পা বাড়ালেন তাঁর ভাই তথা গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর? শান্তনু ঠাকুর (ShantanuThakur) সরাসরিই একথা বলছেন। তা যদি সত্যি হয় বাংলায় বিজেপি বিধায়কের সংখ্যা কমতে চলেছে। তাহলে বিধানসভা ভোটের আগে
বঙ্গে বিজেপির শক্তি ক্ষয় হবে, তৃণমূলের শক্তি বৃদ্ধি পাবে।
ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে মতুয়া কার্ড ও ধর্মীয় সার্টিফিকেট দেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব বেধেছে শান্তনু ঠাকুর ও সুব্রত ঠাকুরের মধ্যে। সুব্রতের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁদের মা ছবিরানি ঠাকুর এবং তৃণমূল সাংসদ তথা ঠাকুর পরিবারের আর এক সদস্যা মমতাবালা ঠাকুর। ঠাকুরনগরে ঠাকুরবাড়িতে সিএএ নিয়ে মতুয়া সমাজের জন্য সহযোগিতা শিবির চালু করা হয়েছিল।SIR তোড়জোড় শুরু হতেই বিজেপি রাজ্যের নানা প্রান্তে এই ‘সিএএ সহযোগিতা শিবির’ খোলা শুরু করেছে। তাতেই আপত্তি জানান সুব্রত। শান্তনুর অভিযোগ, শনিবার সেই ক্যাম্পে গিয়ে উপস্থিত মতুয়া ভক্তদের হুমকি দেন বিজেপি বিধায়ক। সেই অভিযোগের পালটা দিয়ে সুব্রত বলেন, “নাটমন্দিরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়। সেখানে ক্যাম্প করলে অসুবিধা হবে। তাই ওদের সরে যেতে বলি।”
আরও পড়ুন: আয়া-পরিচারকদের তথ্য যাচাইয়ের জন্যেও বিশেষ ফর্ম আনছে লালবাজার
সুব্রত অভিযোগ তোলেন ঠাকুরবাড়ির ক্ষমতা কুক্ষিগত করে দালালরাজ চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু। তিনি বলেন, “শান্তনু নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে দালালরাজ চালাচ্ছে। আমি দলমত নির্বিশেষে সকল মতুয়াদের কাছে এর বিচার চাইছি। তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে বলেন, “আমার কাছে আগে পরিবার। তারপরে রাজনীতি। মাকে নিয়ে আমি জেঠিমা ও বোনের সঙ্গে বৈঠক করেছি।”সুব্রতের সঙ্গে বৈঠকের কথা অস্বীকার করেননি মমতাবালাও। তাঁর বক্তব্য, সুব্রতের সঙ্গে তাঁর যা কথা হয়েছে, তা শুধু নাটমন্দির এবং ভক্তদের সুবিধা-অসুবিধা সংক্রান্ত। শান্তনু ঠাকুরের মা ছবিরানি ঠাকুরের অভিযোগ, “শান্তনুর নেতৃত্বে কিছু লোক ঠাকুরবাড়ির পরিবেশ নষ্ট করছে।
ভাইকে নিশানা করে শান্তনু বলেন, “মাকে সামনে রেখে এসব করছে। ওকে পদ পেতে হবে। আর রাজ্যে মন্ত্রিত্ব পেতে গেলে তৃণমূল করতে হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দেওয়া হয়ে গেল। শুধু পতাকাটা ধরেনি।”
দেখুন ভিডিও
